সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

ভালো মানুষ কেন ঠকে এবং ঠকতেই থাকে কেন?

ভালো মানুষ কেন ঠকে এবং ঠকতেই থাকে ? মনোবিজ্ঞান , গবেষণা ও ইসলামের সমন্বয়ে একটি গভীর বিশ্লেষণ ' আমি তো খারাপ ছিলাম না , তাহলে আল্লাহ আমার সাথেই এমন কেন করলেন ?' এই কথাটা অনেক মানুষকেই বলতে শোনা যায়। ভালো মানুষ মানেই কী পরাজিত মানুষ ? ' আমি মাটিতে পা ফেলি সাবধানে যেন মাটিরও কষ্ট না হয়। ' এমন নরম মনের মানুষ আছে অনেক। তারা কাউকে কষ্ট দিয়ে ফেললে নিজে কষ্ট পায় আরও অনেক। তারা সহ্য করতে জানে। তারা বিশ্বাস করে ঠকে যায়। গবেষণায় যা পাওয়া গেছে অধিক সহমর্মিতা থাকা মানুষগুলোর ইমোশনাল বার্ন আউটে পড়ার ঝুঁকি স্বাভাবিক মানুষদের থেকে ২.৫ গুণ বেশি। তারা ম্যানিপুলেশনের শিকার হয় ৩ গুণ বেশি কারণ তারা সহজে ক্ষমা করে , মানুষকে বিশ্বাস করে। টেনশন ও হতাশায় আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা সাধারণ মানুষদের তুলনায় ৪০-৫০% বেশি। ভালো মানুষরা অন্যের দোষ নিজের ঘাড়ে নেয়। ' সব ঠিক হয়ে যাবে ' ভেবে নিজেকে ইনভেস্ট করে বাজে সম্পর্কের পেছনে। নিউরোসায়েন্স বলে ভালো মানুষদের Amygdala বেশি এক্টিভ মানে কষ্ট তারা গভীরভাবে অনুভব করে কিন্তু প্রকাশ করে কম। " সবচেয়ে বিপজ্জনক মানুষ তারা যারা ...

ভালো মানুষ কেন ঠকে এবং ঠকতেই থাকে কেন?


ভালো মানুষ কেন ঠকে এবং ঠকতেই থাকে?

মনোবিজ্ঞান, গবেষণা ও ইসলামের সমন্বয়ে একটি গভীর বিশ্লেষণ

'আমি তো খারাপ ছিলাম না, তাহলে আল্লাহ আমার সাথেই এমন কেন করলেন?' এই কথাটা অনেক মানুষকেই বলতে শোনা যায়। ভালো মানুষ মানেই কী পরাজিত মানুষ?

'আমি মাটিতে পা ফেলি সাবধানে যেন মাটিরও কষ্ট না হয়।' এমন নরম মনের মানুষ আছে অনেক। তারা কাউকে কষ্ট দিয়ে ফেললে নিজে কষ্ট পায় আরও অনেক। তারা সহ্য করতে জানে। তারা বিশ্বাস করে ঠকে যায়।

গবেষণায় যা পাওয়া গেছে

অধিক সহমর্মিতা থাকা মানুষগুলোর ইমোশনাল বার্ন আউটে পড়ার ঝুঁকি স্বাভাবিক মানুষদের থেকে ২.৫ গুণ বেশি। তারা ম্যানিপুলেশনের শিকার হয় ৩ গুণ বেশি কারণ তারা সহজে ক্ষমা করে, মানুষকে বিশ্বাস করে। টেনশন ও হতাশায় আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা সাধারণ মানুষদের তুলনায় ৪০-৫০% বেশি।

ভালো মানুষরা অন্যের দোষ নিজের ঘাড়ে নেয়। 'সব ঠিক হয়ে যাবে' ভেবে নিজেকে ইনভেস্ট করে বাজে সম্পর্কের পেছনে। নিউরোসায়েন্স বলে ভালো মানুষদের Amygdala বেশি এক্টিভ মানে কষ্ট তারা গভীরভাবে অনুভব করে কিন্তু প্রকাশ করে কম।

"সবচেয়ে বিপজ্জনক মানুষ তারা যারা অতিরিক্ত ভালো।"

কার্ল জং

মনোবিজ্ঞানী কার্ল জং বলেন, এর কারণ তারা খারাপ মানুষকে চিনতে দেরি করে এবং সমস্যায় পড়ে খুব বেশি।

"নিশ্চয়ই আল্লাহ সীমালঙ্ঘনকারীদের পছন্দ করেন না।"
(সূরা আল-বাকারা ২:১৯০)

ইসলাম ভালো হতে বলে কিন্তু অন্ধ ভালো হয়ে নিজের ক্ষতি করতে বলেনা। কুরআন বলে, 'আল্লাহ সীমালঙ্ঘনকারীদের পছন্দ করেন না।' ভালো মানুষ হবার ক্ষেত্রেও নিজের সীমা জানা দরকার এবং এক্ষেত্রে সীমা ভাঙাটাও একধরনের সীমালঙ্ঘন।

"মুমিন এক গর্তে দুইবার পড়ে দংশিত হয় না।"
(সহিহ বুখারি)

রাসূল ছিলেন সবচেয়ে দয়ালু কিন্তু তিনি প্রতারণা সহ্য করেননি। অন্যায়ের সামনে নীরব থাকেননি। তিনি সীমা টানতে জানতেন। তিনি বলেছেন, 'মুমিন এক গর্তে দুইবার পড়ে দংশিত হয় না।' তাই ভালো হওয়া ভালো কিন্তু বারবার ঠকে যাওয়া ভালো নয়।

কী করবেন?

১. ভালো মানুষ মনে করে, 'আমি বুঝলে অন্যরাও বুঝবে, আমি যেমন, সবাই তেমন, আমি ভালো তাই আমার সাথে খারাপ কিছু হবে না।' এই ধারণা পরিবর্তন করুন।

২. ভালো হওয়া মানে দুর্বল হওয়া না। মহান আল্লাহ ধৈর্যশীলদের ভালোবাসেন কিন্তু জুলুম সহ্যকারীদের নয়। জুলুম সহ্য করা মানে অন্যকে জুলুম করতে উৎসাহ দেওয়া।

৩. সীমা নির্ধারণ করুন। কার্ল জং-এর কথা মনে রাখুন - অতিরিক্ত ভালো মানুষ হওয়াও বিপজ্জনক হতে পারে।

৪. রাসূল (সা.)-এর সুন্নত অনুসরণ করুন - প্রতারণা সহ্য করবেন না, অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিন।

উপসংহার

ভালো মানুষই পরাজিত মানুষ এই কথা মিথ্যা প্রমাণিত করতে হলে নিজে সতর্ক থাকতে হবে। বারবার ঠকে ভালো মানুষ হিসেবে পরিচিত হবার প্রয়োজন নেই।

ভালোতা বজায় রাখুন, কিন্তু নিজের মূল্য ও মর্যাদাও সমান গুরুত্ব দিন।

© ২০২৪ | একটি মনস্তাত্ত্বিক ও ইসলামিক বিশ্লেষণ

 


মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

দোয়া কবুলের গল্প

আমার জীবনের সবচেয়ে বড় দোয়া কবুলের গল্প আস সালামু আলাইকুম আমি আমার জীবনের সবচেয়ে বড় দোয়া কবুলের গল্প বলি হ্যাঁ ? সালটা ছিল ২০২৪। হেদায়াতের আগে হারাম সম্পর্কে লিপ্ত ছিলাম। আল্লাহুম্মামাগফিরলি! আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহর অশেষ রহমতে হারাম সম্পর্ক থেকে বাঁচতে পারছি। কিন্তু সেই অতীতের মানুষটার প্রতি মায়া কমে নাই , কেমন জানি মন খালি চাইতো তাকে হালালভাবে জীবনসঙ্গী হিসেবে পাইতে। তো তখন থেকেই দোয়া শুরু করলাম , মানে আমি আমার সর্বোচ্চটা দিয়ে চাইতাম , মন উজাড় করে চাইতাম , আমি জানি যে এইটা কখনোই সম্ভব না কিন্তু চাইতে ভাল্লাগতো। খুব করে কান্না করে করে আল্লাহর কাছে আকুতি মিনতি করে চাইতাম। দোয়া কবুলের প্রত্যেকটা মুহূর্তে চাইতাম , একটা মুহূর্ত ও বাদ দিতাম না , যে যে দোয়া পরলে দোয়া কবুল হয় কিচ্ছু ছাড়ি নাই। কিভাবে চাইলে , কিভাবে বললে কোন প্রোসেসে বললে কবুল হবে সব প্রোসেসে দোয়া করছি। খুব সময় নিয়ে দোয়া করতাম , এত পিপাসা ছিল। তখন পুরোপুরি দ্বীনের বুঝ পাইনাই , তাই অতীত টাই চাইতাম। ২০২৫ সাল। তারপর যখন আল্লাহ্ বুঝ দিলেন , হেদায়াত পাইলাম , বুঝতে পারলাম , নিজেরে আস্তে আস্তে পরিবর্তন করত...