আমার জীবনের সবচেয়ে বড় দোয়া কবুলের গল্প
আস সালামু
আলাইকুম
আমি আমার
জীবনের সবচেয়ে বড় দোয়া কবুলের গল্প বলি হ্যাঁ?
সালটা ছিল
২০২৪। হেদায়াতের আগে হারাম সম্পর্কে লিপ্ত ছিলাম। আল্লাহুম্মামাগফিরলি!
আলহামদুলিল্লাহ
আল্লাহর অশেষ রহমতে হারাম সম্পর্ক থেকে বাঁচতে পারছি। কিন্তু সেই অতীতের মানুষটার
প্রতি মায়া কমে নাই,
কেমন জানি মন খালি চাইতো তাকে হালালভাবে জীবনসঙ্গী হিসেবে পাইতে। তো তখন থেকেই
দোয়া শুরু করলাম, মানে
আমি আমার সর্বোচ্চটা দিয়ে চাইতাম, মন উজাড় করে চাইতাম, আমি জানি
যে এইটা কখনোই সম্ভব না কিন্তু চাইতে ভাল্লাগতো। খুব করে কান্না করে করে আল্লাহর
কাছে আকুতি মিনতি করে চাইতাম। দোয়া কবুলের প্রত্যেকটা মুহূর্তে চাইতাম, একটা
মুহূর্ত ও বাদ দিতাম না,
যে যে দোয়া পরলে দোয়া কবুল হয় কিচ্ছু ছাড়ি নাই। কিভাবে চাইলে, কিভাবে
বললে কোন প্রোসেসে বললে কবুল হবে সব প্রোসেসে দোয়া করছি। খুব সময় নিয়ে দোয়া
করতাম, এত
পিপাসা ছিল।
তখন
পুরোপুরি দ্বীনের বুঝ পাইনাই, তাই অতীত টাই চাইতাম। ২০২৫ সাল। তারপর যখন আল্লাহ্ বুঝ
দিলেন, হেদায়াত
পাইলাম, বুঝতে
পারলাম, নিজেরে
আস্তে আস্তে পরিবর্তন করতে লাগলাম, আল্লাহর প্রিয় বান্দা হওয়ার জন্য
স্ট্রাগল করতে লাগলাম।
তারপর
চিন্তা করলাম আল্লাহ্ তো উত্তম পরিকল্পনাকারী। আল্লাহ্ কি উত্তম দিতে পারেনা? আমি যা
চাচ্ছি তার থেকে তো উত্তম ও তিনি দিতে পারেন। তখন খুব আফসোস হতো যে কি চাইলাম? কেনো
চাইলাম? উত্তম
চাইতাম...
আবার তখন
কেমন জানি মনে হলো যে হয়তো আমার দোয়া কবুল হয় গেছে, এটা ভেবে
খুব ভয় করতো, কি
করলাম আমি?
তারপর
আল্লাহকে বলতে লাগলাম "আল্লাহ্ আমি তো এক অবুঝ বান্দা তোমার, কিছু বুঝি
না, কল্যাণ
অকল্যাণ বুঝতে পারি না গো মাবুদ, আমার জন্য যা এবং যেটা কল্যাণকর সেটাই আমার জন্য কল্যাণের
সাথে নির্ধারণ করো"
তারপর সুরা
ফুরকানের ৭৪ নাম্বার আয়াত পরেই দোয়া করতাম, আগের মত খুব করে চাইতাম, শুধু বলতাম
আল্লাহ্ উত্তম জীবনসঙ্গী চাই, আল্লাহ্ উত্তম। এই উত্তম এর জন্য আগের মত পিপাসায় চোখে
পানি ফেলে চাইতাম।
তারপর কি
হয়েছে জানেন?
এক আশ্চর্য
ঘটনা, নিজের
চোখকে এখনো আমার বিশ্বাস হয় না।
অক্টোবরের
২৬ তারিখ ২০২৫ - আমার জীবনের সবচেয়ে বিশেষ দিন
আমাদের
বাসায় পাত্র। সকলে মিলে কথা বলে কিভাবে যেন সেইদিনই সিলেক্ট করে বিয়ের জন্য।
কিভাবে
যেনো, আল্লাহ্
কিভাবে যেনো, দেখি
সেই অতীতের ব্যক্তিটা। নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। অথচ আমরা একে অপরকে
ভুলে গিয়েছিলাম, কারো
খোজ খবর নেই, উত্তম
চাচ্ছিলাম...
আলহামদুলিল্লাহ, ইস্তিখারা
নামাজ পড়লাম, আল্লাহর
কাছে দোয়া করলাম। তারপর রাজী হলাম। আলহামদুলিল্লাহ সেইদিনই বিয়ে হলো।
বিঃদ্রঃ
আমি আমাদের
বাসায়ই। এখনো শ্বশুর বাসায় যাওয়া হয় নাই, কারণ আমার বয়স খুব কম ১৫+। সামনে Ssc দিবো। ওনার
ও তেমন বয়স না। তো ২ বছর পর আমাকে নিবে। এত তাড়াতাড়ি বিয়ে করার একটাই কারণ
চরিত্র হেফাজত, আর
এইটা এই যামানায় হেফাজত করা খুব কষ্টকর, বেসিক্যালি এই কারণেই বয়স নাহলেও
খুব তাড়াতাড়ি বিয়ে করা হয়েছে। আর আমিও রাজি হইছি। উনি আমাদের বাসায় মাঝে মাঝে
আসে দেখা করতে।
২ মাসের
কাছাকাছি হবে বিয়ের। এই কয়দিনে ওনারে যতটুকু দেখলাম, যতটুকু
চিনলাম, আলহামদুলিল্লাহ।
যেমনটা
আল্লাহর কাছে সুরা ফুরকনের ৭৪ নাম্বার আয়াত পরে চাইছিলাম, তার থেকেও
উত্তম দিয়েছেন আমার রব। আমি কল্পনাও করি নাই, আল্লাহ্ আমারে এত তাড়াতাড়ি দিবেন
আর এত তাড়াতাড়ি দিবেন। সত্যি আল্লাহ্ আমাকে অনেক বেশিই দিছেন, যেমন দিছেন
তেমন আল্লাহর কাছে আমি চাই নাই। এত্তো এত্তো বেশি দিয়েছেন আলহামদুলিল্লাহ।
আমি একদম
চক্ষুশীতলকারী জীবনসঙ্গী পেয়েছি।
দোয়া
কবুলের আমাল সমূহ
আওয়াল
ওয়াক্তে সালাত আদায় করতাম
সালাতের
পরেই দোয়া করতাম
সিজদায়ে
বেশি থেকে বেশি দোয়া করছি
দোয়া করার
আগে ও পরে দরুদ শরীফ পড়তাম
তাহাজ্জুদ
পরেও দোয়া করতাম
সম্ভব না
জেনেও আশা হারাইতাম না,
নিরাশ হই নাই, ভরসা
রাখছি আল্লাহর উপর
এখনো আমার
অনেক চাওয়া আছে আল্লাহর কাছে আমার বিশ্বাস আমার সব আস্তে আস্তে পূরণ করে দিবেন ইন
শা আল্লাহ
কেমন?
আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহর রহমত অফুরান। তিনি তাঁর বান্দাদের দোয়া কবুল করেন।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন